রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের রক্তাক্ত জঙ্গি হামলা। আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা বাজাউর জেলায় একটি পুলিশচৌকিতে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে জঙ্গিরা। ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে একটি শিশুও। হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন পাকিস্তান (টিটিপি)।পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনশিপ (আইএসপিআর) জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি এই হামলা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পুলিশচৌকির পাশের একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানেই এক শিশুর মৃত্যু হয়।
নিরাপত্তাবাহিনী পাল্টা অভিযানে কয়েক জন জঙ্গিকেও নিকেশ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের আগে সন্দেহভাজন একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে চৌকির দিকে এগিয়ে আসে। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেওয়ার আগেই সেটি চৌকির ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। চারদিকে ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।একই দিনে খাইবার পাখতুনখোয়ার আর একটি পুলিশচৌকিতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি মোটরসাইকেলে রাখা বোমা ফাটানো হয়। ওই ঘটনায় দু’জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে এক পুলিশকর্তা জানান, সম্প্রতি বাজাউরের একটি কলেজে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সোমবারের হামলার কায়দা সেই ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে। দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য অশান্ত। বিশেষ করে টিটিপি সক্রিয় হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাকিস্তান সরকার জঙ্গি দমনে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও, সাম্প্রতিক হামলাগুলি প্রশাসনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।এই হামলার পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। জঙ্গি কার্যকলাপের এই পুনরুত্থান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

