রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পহেলগাঁও সন্ত্রাসের পর ভারতের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সামনে আসার পর আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পথে হাঁটল কেন্দ্র। রাশিয়া থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও পাঁচ ইউনিট এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী Rajnath Singh-এর নেতৃত্বাধীন Defence Acquisition Council (ডিএসি) প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।নতুন এই চুক্তির ফলে মোট ২৮৮টি অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় বাহিনীর হাতে আসবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, দ্রুততার সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই বৈঠকে ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা Rosoboronexport-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘পন্টসার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ কেনার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। এই ব্যবস্থায় স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিমানবিধ্বংসী কামান তিন স্তরের সুরক্ষা রয়েছে। উন্নত রাডার ও ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্য শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম পন্টসার।২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে প্রথম দফায় পাঁচ ইউনিট এস-৪০০ কেনার চুক্তি হয়েছিল। তার মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছেছে। বাকি দু’টি ইউনিট দ্রুত সরবরাহের জন্য নয়াদিল্লি দীর্ঘ দিন ধরে তৎপর ছিল। গত বছর চিনের তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর বৈঠকে ২০২৬ সালের মধ্যে অবশিষ্ট ইউনিট পাঠানোর আশ্বাস দেয় মস্কো।২০২৫ সালের ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের তরফে ভারতের ১৫টি শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করে কেন্দ্র। সেই হামলা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এস-৪০০ ব্যবস্থা। শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হয় বলে প্রতিরক্ষা সূত্রের বক্তব্য।বর্তমানে ব্যবহৃত এস-৪০০ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি আরও উন্নত সংস্করণ এস-৫০০ নিয়েও রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলে মন্ত্রক সূত্রে ইঙ্গিত। একই সঙ্গে দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ প্রকল্পেও জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক দশকের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর আকাশসুরক্ষা বলয় গড়ে তোলাই লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

