রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সেন্ট্রাল ভিস্তায় নতুন ঠিকানায় শুরু হল প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পথচলা। শুক্রবার তিন ভবনবিশিষ্ট ‘সেবাতীর্থ’ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী সাউথ ব্লক ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হল প্রাইম মিনিস্টারস অফিস (পিএমও)। উদ্বোধনের দিনই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সই করে প্রশাসনিক তৎপরতার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।‘সেবাতীর্থ’ নামের এই নতুন কমপ্লেক্সে পিএমও-র পাশাপাশি থাকবে মন্ত্রিসভার সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Ajit Doval-এর দফতর।
একই সঙ্গে ‘কর্তব্য-১’ ও ‘কর্তব্য-২’ নামে আরও দু’টি ভবনের উদ্বোধন হয়েছে। সেখানে পর্যায়ক্রমে অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, শিক্ষা, আইন ও বিচার, তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক স্থানান্তরিত হবে বলে জানানো হয়েছে।নতুন দফতরে প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী ‘প্রধানমন্ত্রী রাহাত প্রকল্প’-এর সূচনা করেন। এই প্রকল্পের আওতায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নাগরিকেরা দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে সরকারি সূত্রের দাবি।নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রের ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের লক্ষ্যসীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করা। আগে ২০২৭ সালের মধ্যে তিন কোটি মহিলাকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য ছিল। এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ছ’কোটি মহিলাকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে মহিলারা বিনাসুদে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন।কৃষি ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি অবকাঠামো তহবিলের পরিমাণ এক লক্ষ কোটি টাকা থেকে দ্বিগুণ করে দুই লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।এ ছাড়াও, স্টার্টআপ ও নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিতেই এই উদ্যোগ।নতুন ভবনে কাজের সূচনাতেই একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পে সই করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রশাসনিক পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

