রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতের টু-হুইলার বাজারে ১০০সিসি কমিউটার বাইকের চাহিদা বরাবরই বেশি। কম খরচে বেশি মাইলেজ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার জন্য এই সেগমেন্ট অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই শ্রেণিতে দুটি উল্লেখযোগ্য মডেল হল হোন্ডা সিনে ১০০ এবং বাজাজ প্লাটিনাম ১০০। দু’টি বাইকই সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে তৈরি। তবে বৈশিষ্ট্য, পারফরম্যান্স এবং আরামের নিরিখে কিছু পার্থক্য রয়েছে।দামের দিক থেকে দু’টি বাইকের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। হোন্ডা সিনে ১০০-এর এক্স-শোরুম মূল্য প্রায় ৬৫,৫৫৭ টাকা। অন্যদিকে বাজাজ প্লাটিনাম ১০০-এর প্রারম্ভিক দাম প্রায় ৬৫,৮৯৭ টাকা। ফলে বাজেট বিবেচনায় দু’টিই প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে।
ডিজাইনের দিক থেকে হোন্ডা সিনে ১০০ আধুনিক ও আকর্ষণীয় লুক নিয়ে বাজারে এসেছে। পাতলা ফুয়েল ট্যাঙ্ক, স্টাইলিশ গ্রাফিক্স এবং ক্রোম ফিনিশ একে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় করেছে। বাইকটির ওজন মাত্র ৯৯ কেজি, যা একে হালকা ও সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তোলে। অন্যদিকে বাজাজ প্লাটিনাম ১০০ তুলনামূলকভাবে ক্লাসিক ডিজাইনের হলেও এতে রয়েছে লম্বা ও আরামদায়ক সিট, সোনালি রঙের সাসপেনশন এবং লেডি ডে-টাইম রানিং লাইট। এর ওজন ১১৭ কেজি, যা কিছুটা বেশি হলেও স্থিতিশীলতার জন্য উপকারী।ফিচারের ক্ষেত্রে বাজাজ প্লাটিনাম ১০০ কিছুটা এগিয়ে বলা যায়। এতে রয়েছে কমফোর্টেসি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক স্টার্ট, উন্নত সাসপেনশন এবং প্রশস্ত রাবার ফুটপ্যাড, যা দীর্ঘ যাত্রায় বাড়তি আরাম দেয়। অন্যদিকে হোন্ডা সিনে ১০০-এ রয়েছে কম্বি ব্রেক সিস্টেম , সাইলেন্ট স্টার্ট প্রযুক্তি এবং ফুয়েল ইনজেকশন ব্যবস্থা, যা উন্নত পারফরম্যান্স ও কম নির্গমন নিশ্চিত করে।ইঞ্জিন পারফরম্যান্সের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, হোন্ডা সিনে ১০০-এ রয়েছে ৯৮.৯৮ সিসি ইঞ্জিন, যা ৭.২৮ বিএইচপি শক্তি এবং ৮.০৫ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। বাজাজ প্লাটিনাম ১০০-এ রয়েছে ১০২ সিসি DTS-i ইঞ্জিন, যা ৭.৭৯ বিএইচপি শক্তি এবং ৮.৩৪ নিউটন মিটার টর্ক দেয়। মাইলেজের ক্ষেত্রে প্লাটিনাম ১০০ এগিয়ে এক লিটার পেট্রলে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে বলে দাবি করা হয়। অন্যদিকে সিনে ১০০ প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দেয়।সব দিক বিবেচনায়, বেশি মাইলেজ ও আরাম চাইলে বাজাজ প্লাটিনাম ১০০ উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। আর হালকা ও আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স চাইলে Honda Shine 100 বেছে নেওয়া যেতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
