রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বেলডাঙা অশান্তি-কাণ্ডের তদন্তে গতি আনতে অভিযুক্তদের হেফাজতে নিতে চায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার আদালতে সংস্থার আইনজীবীরা জানান, তদন্ত কার্যত এগোচ্ছে না। শীঘ্রই হাই কোর্টে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে, তাই অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।এনআইএ-র অভিযোগ, বেলডাঙা মামলার অভিযুক্তদের বহরমপুর আদালত থেকে কলকাতায় আনার ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের ‘অনীহা’ রয়েছে। এর আগে দু’দফা শুনানিতেও অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার তৃতীয় বার হাজিরার নির্দেশ থাকলেও, এ দিনও তাঁদের আনা যায়নি।
রাজ্য পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, জেলায় একাধিক আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে পুলিশকর্মীরা ব্যস্ত থাকায় পর্যাপ্ত এসকর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এনআইএ আদালতে সওয়াল করে জানায়, আগের নির্দেশ পুলিশ সুপারকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় কেস রেকর্ড ও তথ্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। সংস্থার আইনজীবী শ্যামল ঘোষ বলেন, “সাত জন অভিযুক্তকে আমরা নিজেদের হেফাজতে নিতে চাই। ইতিমধ্যে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই আবেদন।” প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এসকর্ট নিয়ে অভিযুক্তদের কলকাতায় আনার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।বেলডাঙা অশান্তির সূত্রপাত হয় গত ১৬ জানুয়ারি, মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু ঘিরে। ঝাড়খণ্ডে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অভিযোগ ওঠে, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁকে খুন করা হয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ড পুলিশ প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যার দাবি করে। দেহ বেলডাঙায় পৌঁছনোর পর জাতীয় সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের ঘটনা ঘটে। এক মহিলা সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগও ওঠে।পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, প্রথম দিনের বিক্ষোভ আংশিক স্বতঃস্ফূর্ত হলেও পরের দিনের অশান্তি পরিকল্পিত ছিল। পরে হাই কোর্ট জানায়, কেন্দ্র চাইলে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। সেই অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেয়।এখন অভিযুক্তদের হেফাজত ও এসকর্ট ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই পক্ষ।
