রাতদিন ওয়েবডেস্ক : খাবারে চর্বি বা ফ্যাটের নাম শুনলেই অনেকেই ভয় পেয়ে যান। সাধারণ ধারণা, ফ্যাট মানেই ওজন বৃদ্ধি আর হৃদরোগের ঝুঁকি। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সব ধরনের ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়; বরং কিছু ফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই ফ্যাট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার বদলে সঠিক ফ্যাট বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।ফ্যাট শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি শক্তির উৎস, শরীরে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে সহায়তা করে এবং কোষের গঠন ও কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ত্বক ও চুল সুস্থ রাখতেও ফ্যাট দরকার। তবে অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণ করলে ওজন বেড়ে যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খাওয়াই ভালো। এই ফ্যাট সাধারণত প্রাণিজ খাবারে বেশি থাকে যেমন চর্বিযুক্ত লাল মাংস, মুরগির চামড়া, পুরো দুধ, মাখন, পনির ও আইসক্রিম। এছাড়া নারিকেল তেল ও পাম তেলেও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ে এবং ধমনিতে চর্বি জমে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।সবচেয়ে ক্ষতিকর ধরা হয় ট্রান্স ফ্যাটকে। এটি সাধারণত প্রক্রিয়াজাত ও ভাজাপোড়া খাবারে থাকে যেমন ফাস্ট ফুড, ডিপ ফ্রাই আইটেম, বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি ও কিছু মার্জারিন। ট্রান্স ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমায়, ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই এই ফ্যাট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।অন্যদিকে, মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। অলিভ অয়েল, চিনাবাদাম তেল, বাদাম ও অ্যাভোকাডোতে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়। সামুদ্রিক মাছ (যেমন সারডিন, স্যামন), আখরোট, চিয়া বীজ ও তিসিতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।তবে ভালো ফ্যাট হলেও পরিমাণে সংযম জরুরি। কারণ ফ্যাটে ক্যালরি বেশি। তাই অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে সেদ্ধ, ভাপানো বা হালকা রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শাকসবজি, ফল ও মাছের পরিমাণ বাড়ালে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।সচেতন খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ হৃদযন্ত্রের মূল চাবিকাঠি। ফ্যাট নয়, ভুল ফ্যাটই আসল সমস্যা এই বার্তাই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

