রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হুগলি জেলার পান্ডুয়া এলাকায় পারিবারিক অশান্তিকে কেন্দ্র করে দুই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে অমানবিক নিগ্রহের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার দিকে, যার মর্জিতেই ভরা শীতে দুই ছাত্রকে পুকুরের কাদার মধ্যে নামিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় এবং নির্মমভাবে মারধর করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পান্ডুয়ার তিন্না এলাকার একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মেটানোর নামে ওই তৃণমূল নেতা এক প্রকার 'সালিশি সভা' বসিয়েছিলেন। সেখানে পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের পাশাপাশি দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরত ওই দুই কিশোরকেও ডেকে পাঠানো হয়।
বিবাদের কারণ যাই হোক না কেন, অভিযুক্ত নেতার নির্দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে ওই দুই ছাত্রকে স্থানীয় একটি পুকুরের হাঁটু সমান কাদা ও জলে নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ জলে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পড়ুয়ারা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়লেও রেহাই মেলেনি, বরং নেতার অনুগামীরা তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় যখন এই নিগ্রহের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখে শিউরে উঠছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। যদিও শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্ব একে পারিবারিক বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি নিগৃহীত ছাত্রদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আসন্ন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে এমন বর্বরোচিত আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ওই দুই পড়ুয়া। স্থানীয়দের মতে, তুচ্ছ পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন 'তালিবানি' দাদাগিরি আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সামিল। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে এলাকা জুড়ে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পড়ুয়াকে রাজনীতির দাপটে এমনভাবে লাঞ্ছিত হতে না হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন হাতে তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

