রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সেতু, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ডাম্পার চালক, প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগে সরব এলাকাবাসী। কোচবিহারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় বড়সড় সেতু বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটল, যার জেরে মুজনাই নদীতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল গুরুত্বপূর্ণ বঙ্কিম সেতুটি। রবিবার রাতে ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জটেশ্বর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সংযোগস্থলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যখন বালি বোঝাই একটি ডাম্পার ওই সেতুর ওপর দিয়ে পার হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ডাম্পারটি যখন সেতুর মাঝপথে পৌঁছায়, তখনই বিকট শব্দে সেতুর মাঝের অংশটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে নদীতে বসে যায় এবং ডাম্পারটি বিপজ্জনকভাবে আটকে পড়ে। এই ঘটনায় ডাম্পার চালক পায়ে সামান্য চোট পেলেও অবিশ্বাস্যভাবে সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরেন, যা এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ১৯৯৩ সালে জেলা পরিষদের অর্থানুকূল্যে নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ এবং দুর্বল অবস্থায় ছিল বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, ভারী যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের উদাসীনতায় নিয়মিত বড় গাড়ি এখান দিয়ে চলাচল করত। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ যে, দেওগাঁও থেকে জটেশ্বর পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরু হলেও সেতুর সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ সরকার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি, এমনকি নিম্নমানের কাজের অভিযোগে তাঁরা এর আগে পথশ্রী প্রকল্পের কাজও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই সেতু বিপর্যয়ের ফলে দেওগাঁও ও জটেশ্বরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে; ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মণ এই ঘটনার জন্য সরাসরি শাসকদলের অবহেলা ও দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলেছেন। বর্তমানে সেতুটি পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা এবং নতুন একটি পাকাপোক্ত সেতু নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

