রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাংলাদেশে ২০২৬ সালের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে, কিন্তু এবারের সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের প্রত্যক্ষ অনুপস্থিতি এই নির্বাচনকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বৈপ্লবিক গণঅভ্যুত্থান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও সক্রিয় রাজনীতি থেকে এক প্রকার দূরে থাকা, সব মিলিয়ে দেশের দুই প্রধান স্তম্ভ এখন দৃশ্যপটের বাইরে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কারা জয়ের বন্দরে পৌঁছাবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তাতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া কাজ করছে, একদিকে তারা সুষ্ঠু ভোটের আকাঙ্ক্ষা করছেন, অন্যদিকে নেতৃত্বের শূন্যতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয়ও কাজ করছে। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে, কারণ মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা নেতৃত্ব সংকটে ভুগছেন। অন্যদিকে বিএনপি নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত থাকলেও জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় তারা কতটুকু জনসমর্থন ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলগুলোও এই সুযোগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা প্রথাগত দ্বিদলীয় রাজনীতির বাইরে নতুন কোনো তৃতীয় শক্তির উত্থান দেখতে আগ্রহী। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে কার পাল্লা ভারী হবে তা স্পষ্ট হবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বড় পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক মহলও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে। শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হবে তা অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করছে, যার মধ্যে রয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে, যেখানে দুই প্রধান নেত্রীর অনুপস্থিতিতেই নির্ধারিত হবে দেশের আগামীর ভাগ্য।

