রাতদিন ওয়েবডেস্ক : নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে এক বৃদ্ধার মৃত্যু এবং পরবর্তী মরণোত্তর চক্ষুদানকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন মানবিকতার নজির তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে এক রহস্যময় আইনি ও পারিবারিক জটিলতা জনমানসে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধার প্রয়াণের পর তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে কর্নিয়া দানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে দুজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি নতুন করে পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পেয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাফল্যের নিরিখে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ঘটনা হলেও, এই মহৎ কাজের সমান্তরালে দানা বেঁধেছে এক করুণ বিতর্ক।
অভিযোগ উঠেছে, বৃদ্ধার মৃত্যুর সময় তাঁর একমাত্র পুত্র কারাগারে বন্দি ছিলেন, যা নিয়ে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃদ্ধার অসুস্থতা এবং অন্তিম সময়ে ছেলের অনুপস্থিতি কেবল একটি পারিবারিক বিপর্যয় নয়, বরং এর পিছনে কোনও গভীর সামাজিক বা আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জটিলতা কাটছে না। প্রতিবেশী ও পরিচিত মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে ওই যুবককে কারাবাস করতে হচ্ছে এবং মায়ের মৃত্যুকালেও কেন তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা সম্ভব হলো না। মানবিকতার খাতিরে একদিকে যখন দুই অন্ধ ব্যক্তির জীবন আলোকিত হচ্ছে, তখন অন্যপ্রান্তে একটি পরিবারের অন্ধকার অধ্যায় এবং ছেলের বন্দিদশা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও, স্থানীয়দের মধ্যে কানাঘুষো চলছে যে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক বিবাদ বা আইনি মারপ্যাঁচ থাকতে পারে। শেষ পর্যন্ত মরণোত্তর চক্ষুদানের মাধ্যমে বৃদ্ধা অমর হয়ে রইলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর ছেলের কারাবাস এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ কৃষ্ণনগরের এই শোকাতুর পরিবেশে এক অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন হিসেবেই থেকে গেল, যা নিয়ে তদন্ত বা আইনি পর্যালোচনার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

