Type Here to Get Search Results !

Abhishek Bannerjee : সুপ্রিম নির্দেশের পরও SIR-এ নিষ্ক্রিয় ইআরও! চ্যাট ফাঁস করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন অভিষেক ব্যানার্জী

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ জারির পরও SIR  প্রক্রিয়ায় ইআরও-র নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। শনিবার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে চ্যাটবৃত্তান্ত প্রকাশ করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ইআরও আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল একাধিক ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গ করেছেন এবং সুপ্রিম নির্দেশ সত্ত্বেও যথাযথ পদক্ষেপ নেননি।অভিষেক তাঁর পোস্টে জানান, প্রকাশিত চ্যাট অনুযায়ী তিনটি গুরুতর অনিয়ম সামনে এসেছে। প্রথমত, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপত্তি ও দাবি খতিয়ে দেখার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা পালন করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীদের নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়েই কিছু নাম খারিজ বা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলেছিল যে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না পড়ে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। চ্যাটবৃত্তান্তে নাকি এমন কিছু কথোপকথন উঠে এসেছে, যা থেকে বোঝা যায় প্রশাসনিক স্তরে গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ঘটেছে।অভিষেক আরও দাবি করেন, এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে। ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের ভিত্তি, সেখানে সামান্য ত্রুটিও ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, তার জন্য আমরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করব।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তা রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, SIR একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। বিপুল সংখ্যক আবেদন, আপত্তি ও সংশোধনের কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে বিলম্ব হতেই পারে। তবে তারা এটাও মানছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকলে তা অক্ষরে অক্ষরে মানা প্রশাসনের দায়িত্ব।আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি সত্যিই সুপ্রিম নির্দেশ অমান্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আদালত অবমাননার পর্যায়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জবাবদিহি করতে হতে পারে।

 তবে চ্যাটবৃত্তান্তের সত্যতা, প্রেক্ষাপট এবং সম্পূর্ণ কথোপকথন যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলেও মত তাঁদের।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এমন অভিযোগ সামনে আসা ঘটনাটিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। আগামী দিনে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।সমগ্র ঘটনায় স্পষ্ট, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ প্রবল। গণতান্ত্রিক কাঠামো অটুট রাখতে হলে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক—সবারই দায়িত্ব রয়েছে নিয়ম মেনে প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখা। এখন নজর থাকবে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ধরনের তদন্ত বা ব্যাখ্যা সামনে আসে এবং সুপ্রিম নির্দেশ বাস্তবায়নে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad