Type Here to Get Search Results !

Bankura : বিজেপিছেড়ে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন, ‘পাপ ধুতে’ গঙ্গাজলে শোধন—ওন্দায় দলবদলে চাঞ্চল্য

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন, ‘পাপ ধুতে’ গঙ্গাজলে শোধন ওন্দায় দলবদলে চাঞ্চল্য নির্বাচনের মুখে আবারও রাজনৈতিক দলবদলের জোয়ার। বাঁকুড়ার ওন্দা এলাকায় একসঙ্গে বহু কর্মী-সমর্থক ভারতীয় জনতা পার্টি ছেড়ে যোগ দিলেন তৃনমুল কংগ্রেস -এ। এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর প্রতীকী আয়োজন দলবদলুদের গঙ্গাজল ছিটিয়ে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অনেকেই নাকি “ভুল বুঝতে পেরে” আবার পুরনো দলে ফিরতে চেয়েছেন। তাঁদের কথায়, রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে অসামঞ্জস্য ও সাংগঠনিক উপেক্ষাই ছিল ফিরে আসার প্রধান কারণ। তাই দলীয় কর্মীরা প্রতীকীভাবে গঙ্গাজল দিয়ে ‘পাপ ধুয়ে’ নতুনভাবে দলে স্বাগত জানিয়েছেন। এই কর্মসূচিকে তাঁরা আখ্যা দিয়েছেন “বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের শপথ” হিসেবে।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে কর্মীদের দলে টানা হচ্ছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব বলছে, এই ধরনের প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে রাজনৈতিক নাটক, যা ভোটের আগে জনমত প্রভাবিত করার কৌশল মাত্র।ওন্দা এলাকায় যে সংখ্যক কর্মী দলবদল করেছেন, তা নিয়ে দুই শিবিরের দাবি-প্রতিদাবি রয়েছে। তৃণমূলের দাবি, “বিশাল সংখ্যায়” বিজেপি কর্মী তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। বিজেপি অবশ্য বলছে, সংখ্যাটা অতটা নয়; অনেকেই সাময়িকভাবে দূরে ছিলেন, তাঁরা সংগঠনের সঙ্গেই আছেন। তবে এলাকায় যে উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে দলবদল নতুন কিছু নয়। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের প্রত্যাবর্তন বা ভাঙন প্রায়শই দেখা যায়। অনেক সময় স্থানীয় স্তরের অসন্তোষ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কিংবা টিকিট বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ এসব কারণেই কর্মীরা শিবির বদলান। আবার ক্ষমতার সমীকরণও বড় ভূমিকা নেয়। ওন্দার ঘটনাও সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ বলেই মত তাঁদের।‘গঙ্গাজলে শোধন’ প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। 

কেউ একে সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে দেখছেন, কেউবা বলছেন এটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল। সমর্থকদের মতে, এটি ছিল ঐক্যের প্রতীক; বিরোধীদের মতে, এতে রাজনৈতিক নাটকীয়তা বেশি। তবে সাধারণ মানুষের একাংশের মত, ভোটের আগে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানই হওয়া উচিত মূল ইস্যু দলবদল নয়।এই ঘটনার পর এলাকায় উভয় পক্ষই সংগঠন শক্তিশালী করতে তৎপর হয়েছে। তৃণমূল শিবিরে নতুন যোগদানকারীদের দায়িত্ব বণ্টন ও সাংগঠনিক কাজে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। বিজেপিও পাল্টা সভা-সমাবেশের পরিকল্পনা করছে, যাতে কর্মীদের মনোবল অটুট থাকে। ফলে ওন্দা এখন কার্যত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে।সব মিলিয়ে, বিজেপি থেকে তৃণমূলে এই প্রত্যাবর্তন ও প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান ওন্দার রাজনৈতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনের আগে এই দলবদল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে স্পষ্ট রাজনৈতিক ময়দানে সমীকরণ বদলাচ্ছে, আর তার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় স্তরেও।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad