রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আমেরিকার বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো ব্যবহার করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা তথা ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ পিটার নাভারো। চ্যাটজিপিটির মতো এআই প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন মুখ্য কৌশলী স্টিভ ব্যাননকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নাভারো প্রশ্ন তোলেন, কেন আমেরিকার নাগরিকদের অর্থ ও শক্তি খরচ করে বিদেশে এআই পরিষেবা দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, চ্যাটজিপিটির সার্ভার ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো মূলত আমেরিকার মাটিতে অবস্থিত এবং সেখানকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই এই এআই ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। অথচ তার সুবিধা পাচ্ছে ভারত, চিন ও অন্যান্য দেশ। নাভারোর ভাষায়, “ভারত যদি এআই ব্যবহার করে, তার জন্য আমেরিকার মানুষ কেন মূল্য দেবে?”এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় এলে বিদেশে এআই পরিষেবা দেওয়ার বিষয়ে কড়া নীতি বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে কি না। বিশেষ করে চ্যাটজিপিটির মতো মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে ঘিরে নতুন কোনও বিধিনিষেধ আসতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে।পিটার নাভারোর সঙ্গে ভারতকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার তাঁর মন্তব্যে ভারতবিরোধী সুর ধরা পড়েছে। বাণিজ্যিক নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ভারতকে ‘শুল্কের মহারাজা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সেটিকে ‘মোদীর যুদ্ধ’ বলেও বিতর্ক উসকে দেন তিনি।নাভারোর সাম্প্রতিক এআই-সংক্রান্ত মন্তব্য সেই ধারাবাহিক বিতর্কেরই নতুন সংযোজন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তি, শক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য ভবিষ্যতে আমেরিকার এআই নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

