রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাকে ঘিরে রবিবার সকাল থেকেই হুগলির হরিপাল বিধানসভা এলাকায় ছিল আলাদা ব্যস্ততা। সহদেব গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ইলাহিপুর–শ্রীপতিপুর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে ভোর হতেই রান্নার আয়োজন করেন বিজেপি কর্মীরা। বড় সভার আগে পেট ভরে খেয়ে নেওয়াই ছিল লক্ষ্য।
মেনু অবশ্য খুব চেনা ভাত আর ডিমের ঝোল।বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, সারা দিনে আর ঠিকমতো খাওয়ার সুযোগ মিলবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই সকালে শক্তি জোগাতে দু’পেট ভাত জরুরি। আর অল্প সময়ে, কম খরচে রান্না বলতে ডিম-ভাতের তুলনা নেই। কোথাও কোথাও ডিমের ঝোলের সঙ্গে যোগ হয়েছে সয়াবিনের তরকারিও। পাকা ইট জুড়ে বানানো উনুনে বড় কড়াই বসিয়ে রান্না চলেছে। রান্নার ফাঁকেই উঠেছে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। খাওয়া সেরে দ্রুত বাসে উঠে পড়েছেন কর্মীরা গন্তব্য সিঙ্গুরের টাটা মাঠ।এই ডিম-ভাতের আয়োজন নতুন করে রাজনৈতিক স্মৃতিও উসকে দিয়েছে। অনেকের মনেই ফিরে এসেছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেড সমাবেশের কথা। তখন বিরোধী জোটের সভায় আগত কর্মী-সমর্থকদের জন্য ডিমের ঝোল ও ভাতের ঘোষণা হয়েছিল। তবে বানান বিভ্রাটে ‘ডিম-ভাত’ হয়ে গিয়েছিল ‘ডিম্ভাত’, যা নিয়ে তুমুল ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ শুরু হয় রাজ্যজুড়ে।পরবর্তী সময়ে অতিমারির সময়েও ডিম-ভাত রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগের প্রতীক হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মা’ প্রকল্পে মাত্র পাঁচ টাকায় ডিম-ভাতের ব্যবস্থা হয়েছিল দুঃস্থ মানুষের জন্য। সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও এই সহজ খাবারের উপর ভরসা রেখেছিল।রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক বাম, ডান কিংবা মাঝামাঝি বড় সভা বা কর্মসূচির আগে আজও ডিম-ভাতই যেন সবচেয়ে ভরসার খাবার। ‘ডিম্ভাত’ নিয়ে যতই কটাক্ষ থাকুক, বাস্তবের রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা অটুট।

