রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল। শনিবার শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার অষ্টম স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কেস ডায়েরিও পেশ করা হয়। তবে এই রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় নির্যাতিতার পরিবার।
তাদের আইনজীবীর বক্তব্য, তদন্তে কোনও “ফলপ্রসূ” অগ্রগতি চোখে পড়ছে না।আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী সওয়াল করে বলেন, “এই মামলায় নির্যাতিতার পরিবার খুশি নয়, অভিযুক্তেরাও খুশি নন। শুধু তদন্তকারীরাই বলছেন সব ঠিক আছে। কিন্তু বাস্তবে ফলাফল শূন্য।” তাঁর অভিযোগ, একের পর এক স্টেটাস রিপোর্ট জমা পড়লেও তদন্তের দিক বা গতি স্পষ্ট নয়। গত বছর মার্চে প্রথম রিপোর্টে ২৪ জনকে জেরা করার কথা বলা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে কখনও ১২, কখনও সাত, কখনও ছ’জনকে জেরা করার তথ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালের জুন ও ১০ জুনের রিপোর্টে কার্যত কোনও অগ্রগতি নেই বলেই দাবি পরিবারের।আইনজীবীর আরও প্রশ্ন, নির্যাতিতার মাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেন ডাকা হয়নি। তিনি ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার আগে মেয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলেও আদালতে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, জিডি বুক পরিবর্তন, কিছু সিসিটিভি ফুটেজ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও তদন্তকারীদের চলাফেরার ভিডিও থাকার দাবিও করেন পরিবারের আইনজীবী।সিবিআই পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানায়, কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা সম্পূর্ণ তদন্তকারী সংস্থার সিদ্ধান্ত। কোনও পক্ষের নির্দেশ মেনে তদন্ত করা সম্ভব নয়। সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, টালা থানার জিডি খতিয়ে দেখা হয়েছে, আরজি কর হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত একাধিক চিকিৎসক, কর্মী ও পুলিশকর্মীকে জেরা করা হয়েছে এবং কয়েকজনের কল ডিটেল রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়েছে।এই মামলায় একাধিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীও স্টেটাস রিপোর্টের ধারাগুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।আদালত জানিয়েছে, এই রিপোর্ট নিয়ে এখনই কোনও নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ার নেই। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেবে সিবিআই। একই সঙ্গে আদালত চত্বরে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছেন।

