রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে গাজ়া ভূখণ্ডের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ খুলতে চলেছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষিতে ইজ়রায়েল সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রবিবার থেকে গাজ়া ও মিশরের মধ্যে সংযোগকারী একমাত্র স্থলপথ রাফা ক্রসিং আংশিক ভাবে খুলে দেওয়া হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজ়রায়েল-হামাস সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কার্যত বন্ধ ছিল এই সীমান্তপথ।
সংঘর্ষ শুরুর পর প্রথমে মিশর প্রশাসনই রাফা সীমান্ত বন্ধ রাখে। কায়রোর আশঙ্কা ছিল, সীমান্ত খুলে দিলে হামাসের সশস্ত্র সদস্যরা ইজ়রায়েলি অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে মিশরে ঢুকে পড়তে পারেন। পরে অবশ্য আন্তর্জাতিক মানবিক চাপে গাজ়ায় ত্রাণ পাঠানোর জন্য সীমিত ভাবে রাফা ক্রসিং খোলা হয়। ধাপে ধাপে অসামরিক গাজ়াবাসীর যাতায়াতের বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে ওঠে, যখন ইজ়রায়েল দক্ষিণ গাজ়ার রাফা ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।গত মাসে আমেরিকার মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় ইজ়রায়েল স্পষ্ট জানায়, হামাসের হাতে আটক শেষ ইজ়রায়েলি পণবন্দির দেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত রাফা ক্রসিং খোলা হবে না।
ওই পণবন্দি ছিলেন ২৪ বছর বয়সি ইজ়রায়েলি পুলিশ সার্জেন্ট রান গভিলি, যাঁকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস অপহরণ করেছিল বলে দাবি ইজ়রায়েলের।গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজ়ার একটি ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে রান গভিলির দেহ উদ্ধার করে ইজ়রায়েলি সেনা। এই ঘটনার পরই পরিস্থিতিতে দ্রুত বদল আসে। হামাস এক বিবৃতিতে দাবি করে, ইজ়রায়েলি সেনার হামলার জেরেই ওই পণবন্দির মৃত্যু হয়েছিল এবং দেহ উদ্ধারে তারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। যদিও নেতানিয়াহু সরকার এই দাবির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।তবে ঘটনাচক্রে দেহ উদ্ধারের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাফা ক্রসিং আংশিক ভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসে। রবিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গাজ়ার সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা আসবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

