রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপককে ছাত্রনেতাদের দ্বারা তাড়া করা, শারীরিক হেনস্থা এবং দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২টা নাগাদ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের চার জন নেতা তাঁকে ধাওয়া করে ধরেন। এরপর টেনেহিঁচড়ে শারীরিক নিগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হয় এবং জোর করে অটোতে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রক্টর দফতরে আটকে রাখা হয়। প্রায় ন’ঘণ্টা সেখানে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে দাবি।ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, এক জন ছাত্রনেতা পিছন থেকে অধ্যাপককে জাপটে ধরেছেন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিয়োতে ছাত্র সংসদের দফতর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ এবং সদস্য সোহানুর রহমানকে দেখা যায়।তবে ছাত্রনেতারা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাঁদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময়ে ওই অধ্যাপক গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার নেপথ্যেও তাঁর ভূমিকা ছিল। অধ্যাপক আহত হয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য, দৌড়তে গিয়ে গাছের গুঁড়িতে ধাক্কা লেগে তিনি আহত হন।অন্য দিকে, সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি কোথাও যেতেন না এবং কোনও ব্যক্তি বা ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না।শেষ পর্যন্ত শনিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ প্রক্টরের গাড়িতে চেপে ‘নিগৃহীত’ অধ্যাপক ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তাঁর তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়নি।
