রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একেবারে অপ্রত্যাশিত মোড়। তেহরান দাবি করেছে, ইরান সরকার দেশে কার্যকর থাকা সমস্ত মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মানবাধিকার ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে থাকা ইরানের এই ঘোষণায় বিশ্ব কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রকাশ্যে ইরানের প্রশংসা করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি অতীতে ইরান প্রশ্নে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁর মুখে এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের মুখ থেকে ফিরল পরিস্থিতি সূত্রের খবর, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখনই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চারটি প্রভাবশালী দেশের মধ্যস্থতায় সেই অভিযান স্থগিত হয়ে যায়।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই চার দেশ গোপন আলোচনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। ধারাবাহিক বৈঠক, বার্তা আদান প্রদান এবং সমঝোতার মাধ্যমেই যুদ্ধের সম্ভাবনা আপাতত ঠেকানো সম্ভব হয়। মৃত্যুদণ্ড বাতিল মানবাধিকার না কৌশল, বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মানবাধিকার প্রশ্নে নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর কৌশলগত পদক্ষেপ। পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করতেই তেহরান এই বার্তা দিতে চাইছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলিও বিষয়টি সতর্ক নজরে দেখছে। তাদের বক্তব্য, ঘোষণার বাস্তব রূপ ও আইনি কার্যকারিতা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন সমীকরণ ট্রাম্পের প্রশংসা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে শুরু করে সামরিক হুঁশিয়ারি সবচেয়ে আক্রমণাত্মক নীতি যিনি নিয়েছিলেন, তাঁর মুখে এই মন্তব্য নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে ইরান আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দরজা খুলতে পারে, যদিও তা এখনও অনিশ্চিত। আপাতত স্বস্তি, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই মুহূর্তে যুদ্ধের মেঘ কিছুটা কাটলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এটি কি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সূচনা, নাকি সাময়িক কূটনৈতিক বিরতি, বিশ্ব রাজনীতি এখন তাকিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

