রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তি খারিজ করে পারিবারিক পেনশন বা ‘ফ্যামিলি পেনশন’ নিয়ে এক যুগান্তকারী রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পর তাঁর বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যা পেনশন পাওয়ার অধিকারী কি না, সেই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা চলছিল। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বিচ্ছেদের চূড়ান্ত আইনি শংসাপত্র বা ডিক্রি পাওয়ার সময়টি এখানে মুখ্য নয়।
যদি কোনো কন্যার বিবাহবিচ্ছেদের মামলা তাঁর বাবা-মায়ের (পেনশনভোগী) জীবদ্দশায় শুরু হয়ে থাকে, তবে বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর বিচ্ছেদের চূড়ান্ত রায় এলেও ওই কন্যা পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অসহায় ও নির্ভরশীল মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তাকে এক নতুন দিশা দেখাল।এই মামলার মূলে ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি রিট পিটিশন, যেখানে তারা সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের (CAT) রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিল। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সংশ্লিষ্ট মহিলার বিবাহবিচ্ছেদের চূড়ান্ত ডিক্রি তাঁর বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরে কার্যকর হয়েছে, তাই নিয়মানুযায়ী তিনি এই সুবিধা পেতে পারেন না। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রের এই যুক্তি মানতে নারাজ। আদালত স্পষ্ট জানায় যে, ভারতের বিচার ব্যবস্থায় আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে একটি মামলার নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লেগে যায়। এই দেরির দায় কোনোভাবেই আবেদনকারী কন্যার ওপর চাপানো যায় না। ১৯ জুলাই ২০১৭-এর একটি অফিস মেমোরেন্ডাম উল্লেখ করে আদালত জানায়, বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াটি কবে শুরু হয়েছিল, সেটিই পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে আসল মাপকাঠি হওয়া উচিত।আদালত আরও জানিয়েছে যে, পারিবারিক পেনশনের মূল উদ্দেশ্যই হলো মৃত সরকারি কর্মচারীর ওপর নির্ভরশীল সদস্যদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি অবশ্যই ওই সরকারি কর্মচারীর জীবদ্দশায় দায়ের হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট কন্যাকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি আর্থিকভাবে তাঁর বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত মাসিক আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার (সাধারণত ৩,৫০০ টাকা + ডিএ) নিচে থাকতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই পেনশন সুবিধা বিচ্ছেদের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার দিন থেকেই কার্যকর হবে।কলকাতা হাইকোর্টের এই মানবিক ও বাস্তবধর্মী রায় সারা দেশের লক্ষ লক্ষ অসহায় নারীর আইনি লড়াইকে শক্তিশালী করল। এর ফলে আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে আর কোনো বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যাকে তাঁর ন্যায্য অধিকার ও আর্থিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।
