রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জ়িয়া। মৃত্যুর পর এ বার তাঁর চিকিৎসা ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে আনলেন মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী।
তাঁর অভিযোগ, খালেদা জ়িয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃত অবহেলা করা হয়েছিল, যার ফলেই দ্রুত তাঁর লিভারের অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে।শুক্রবার ঢাকায় আয়োজিত খালেদা জ়িয়ার শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী জানান, এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষায় দেখা যায়, খালেদা জ়িয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। অথচ তার আগের চিকিৎসা নথিতে বিষয়টি উল্লেখই ছিল না।
বরং আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়মিত মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যা ভর্তি থাকা অবস্থাতেও চালু ছিল। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধ মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি বুঝেই মেডিক্যাল বোর্ড অবিলম্বে ওষুধটি বন্ধ করে দেয়।অধ্যাপক সিদ্দিকীর অভিযোগ, ঢাকা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকার সময় খালেদার লিভার ফাংশন পরীক্ষার রিপোর্ট খারাপ হলেও প্রয়োজনীয় আলট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করা হয়নি। শুধু তাই নয়, ক্ষতিকর ওষুধ বন্ধও করা হয়নি।
তাঁর কথায়, ‘‘এটি নিছক ভুল নয়, চরম অবহেলার পরিচয়।’’খালেদা জ়িয়া দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবিটিস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি, লিভার, হৃদ্রোগ-সহ একাধিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অধ্যাপক সিদ্দিকীর দাবি, মেথোট্রেক্সেট তাঁর ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে লিভার সিরোসিসের দিকে ঠেলে দেয়, যা কার্যত ‘স্লো পয়জন’-এর সমান।এই ঘটনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে তদন্তের দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, সরকারি মেডিক্যাল বোর্ডের গঠন, চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকদের ভূমিকা এবং খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের যুক্ত হতে না দেওয়ার কারণ এই তিনটি বিষয়েই স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।

