রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পূর্ব যাদবপুরের মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যানগরের বাসিন্দা তথা বিএলও অশোক দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর, এবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের স্ত্রী সুদীপ্তা দাস।
তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি কাজে 'এসআইআর' সংক্রান্ত অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরেই তাঁর স্বামী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। আধিকারিকরা মৃতের ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছেন।
টেবিলের ওপর পড়ে থাকা একটি সাদা কাগজে অশোকবাবু লিখে গিয়েছেন যে, এসআইআরের চাপ তিনি আর মেনে নিতে পারছেন না এবং এর ফলে তাঁর শরীরও ভেঙে পড়ছে। মা-বাবার কাছে চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নোটে জানিয়েছেন। পেশায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকার বহরু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক অশোক দাস বর্তমানে পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফ.পি. স্কুলের ১১০ নম্বর ভোটকেন্দ্রের বুথ লেভেল অফিসার, হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজ্যজুড়ে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে যুক্ত থাকার কারণে গত কয়েকদিন ধরেই তিনি প্রবল মানসিক উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়ার পর মৃত বিএলওর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশমতো স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অশোক দাসের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। রুটিনমাফিক কাজের পাশাপাশি এই ধরণের বিশেষ প্রকল্পের চাপে একজন শিক্ষকের এমন পরিণতিতে প্রশাসনের অন্দরেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে যে, কর্মক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ তাঁকে হেনস্থা করছিল কি না, নাকি সামগ্রিক কাজের ভারই তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছিল।

