রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাঁকুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে এবার রেলপথে যুক্ত হলো সারদা মায়ের জন্মভিটে জয়রামবাটি। আগামী ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই নতুন রেল পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং ১৯ জানুয়ারি থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিয়মিত ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাঁকুড়া থেকে ময়নাপুর পর্যন্ত চলা মেমু ট্রেনটির রুট সম্প্রসারিত হয়ে এখন পৌঁছাবে জয়রামবাটি পর্যন্ত। এর ফলে একদিকে যেমন পর্যটন মানচিত্রে জয়রামবাটির গুরুত্ব বাড়বে, তেমনই স্থানীয় গ্রামবাসীদের জেলা সদরে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে বাঁকুড়া স্টেশন থেকে রওনা দিয়ে রাত ৮টায় জয়রামবাটি পৌঁছাবে। ফিরতি পথে রাত ৮টা ১০ মিনিটে জয়রামবাটি থেকে ছেড়ে রাত ১০টায় ট্রেনটি পুনরায় বাঁকুড়ায় ফিরে আসবে। যাত্রাপথে ট্রেনটি ভেদুয়াশোল, ওন্দাগ্রাম, রামসাগর, বিষ্ণুপুর, বিরসা মুণ্ডা, গোকুলনগর-জয়পুর, ময়নাপুর ও বড়গোপীনাথপুর এই আটটি স্টেশনে থামবে।
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, প্রায় ১৫ কিমি দীর্ঘ এই নতুন রেলপথ সম্প্রসারণের ফলে যাত্রী চাহিদা বাড়লে ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বা সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।তবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ২০০০-০১ সালে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেলপথের পরিকল্পনা ও ঘোষণা করেছিলেন। এখন সেই প্রকল্পের কৃতিত্ব বিজেপি নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ। অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব একে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক উপহার হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিতর্ক যাই থাকুক, জয়রামবাটিতে ট্রেন পৌঁছনোর খবরকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

