রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মাথাচাড়া দিচ্ছে পুরনো ক্ষত। মধ্যপ্রদেশে সম্প্রতি এক আদিবাসী যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় ফের সামনে এল ত্রিপুরার মেধাবী ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমার মর্মান্তিক পরিণতির কথা। উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূনে পড়তে গিয়ে যেভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন অ্যাঞ্জেল, মধ্যপ্রদেশের এই ঘটনা যেন তারই প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। ত্রিপুরার বাসিন্দা অ্যাঞ্জেল চাকমা দেহরাদূনে একটি বেসরকারি কলেজে এমবিএ পড়ছিলেন। অভিযোগ গত ৯ ডিসেম্বর রাতে বাজারে জিনিস কিনতে গিয়ে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার হন অ্যাঞ্জেল এবং তাঁর ভাই মাইকেল। তাঁদের লক্ষ্য করে ‘চিংকি’ বা ‘মোমো’ র মতো কুরুচিকর শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। লোহার রড এবং ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয় তাঁদের ওপর। টানা ১৬ দিন জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ২৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় অ্যাঞ্জেলের। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ কথা ছিল "আই অ্যাম অ্যান ইন্ডিয়ান"।
এই ঘটনাটি উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশের ঘটনার সঙ্গে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে এক আদিবাসী ব্যক্তিকে অমানবিক হেনস্থার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই অ্যাঞ্জেল চাকমার ঘটনার সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন। দুটি ক্ষেত্রেই আক্রান্তরা সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক সম্প্রদায়ের। উত্তরাখণ্ড পুলিশের মতো মধ্যপ্রদেশ পুলিশও প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা তৎক্ষণিক গণ্ডগোল বলে লঘু করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আঙুল পুলিশের দিকে অ্যাঞ্জেলের পরিবারের অভিযোগ ছিল, ঘটনার পর এফআইআর দায়ের করতে পুলিশ ১২ দিন সময় নিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের গড়িমসি এবং মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার প্রবণতা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা।
রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে উত্তর পূর্বের রাজনৈতিক দলগুলি একে হেট ক্রাইম বা ঘৃণার রাজনীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পরিবারের দাবি অ্যাঞ্জেলের বাবা তরুণ চাকমা, যিনি নিজে একজন বিএসএফ জওয়ান, কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছেন দেশের সেবা করি সীমান্তে দাঁড়িয়ে, অথচ দেশের ভেতরেই আমার ছেলে নিরাপদ ছিল না। আর যেন কোনও বাবার কোল এভাবে খালি না হয়। মধ্যপ্রদেশের ঘটনার পর আবারও সেই একই আরজি শোনা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের গলায়।

