রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মোহনবাগান তাঁবুতে বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যাটা কেবল একটা অনুষ্ঠান হয়ে থাকল না, তা হয়ে উঠল স্মৃতি আর আবেগের এক মিলনমেলা। কিংবদন্তি চুনী গোস্বামীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত 'ক্রিকেট দিবস'-এ ধরা দিল সবুজ-মেরুন ঐতিহ্যের এক অনন্য ছবি।
যেখানে এক ছাদের তলায় মিশে গেলেন অতীতের মহাতারকা আর বর্তমানের প্রতিনিধিরা।অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিলেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক রাজু মুখোপাধ্যায়। ক্লাবের লনে পা রেখেই স্মৃতির সরণি বেয়ে অতীতে ফিরে যান তিনি। মনে করিয়ে দেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত উক্তি। রাজু জানান, একবার কবির সঙ্গে তাঁর দেখা হলে কবি তাঁকে ‘ক্যাপ্টেন’ বলে সম্বোধন করেন। রাজু ভেবেছিলেন বাংলার অধিনায়ক বলে হয়তো এই সম্বোধন, কিন্তু শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁকে সংশোধন করে দিয়ে বলেছিলেন, “দেশ ভাগ হয়েছে, বাংলা ভাগ হয়েছে, কিন্তু মোহনবাগান ভাগ হয়নি।” ক্লাবের বৈশ্বিক আবেগ বোঝাতে রাজুর কণ্ঠে এই গল্প আজ যেন অন্য মাত্রা পায়।এদিনের লন যেন ছিল চাঁদের হাট। পলাশ নন্দী, সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রণব রায় থেকে শুরু করে সাগরময় সেনশর্মা,উপস্থিত ছিলেন বাংলার ক্রিকেটের সব পরিচিত মুখ।
রনজি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় আপ্লুত হয়ে জানান, মোহনবাগান যেভাবে প্রাক্তনী ও বর্তমানের মেলবন্ধন ঘটালো তা এক কথায় ‘পুনর্মিলন’। ক্লাব তার অতীতকে ভুলে যায়নি, এটাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর পর ক্লাবে পা রাখলেন প্রাক্তন অধিনায়ক ও বর্তমান বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। মোহনবাগানের হয়ে অজস্র ম্যাচ জেতানো লক্ষ্মী জানান, এই ক্লাবে তাঁর অনেক অমলিন স্মৃতি রয়েছে। আড্ডা আর স্মৃতিচারণে তিনি কাটিয়ে দিলেন অনেকটা সময়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সৌরাশিস লাহিড়ী, শুভময় দাস, অরিন্দম দাসদের মতো ক্রিকেটাররা। অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে বিশেষ চমক ছিল বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ক্রিকেটার সৈয়দ কিরমানির উপস্থিতি, যা সান্ধ্য আসরকে পূর্ণতা দেয়।

