রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি আর লক্ষাধিক ভক্তের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে বিহারের পূর্ব চম্পারন জেলায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত রচিত হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কল্যাণপুর ব্লকের নির্মাণাধীন বিরাট রামায়ণ মন্দিরে শাস্ত্রীয় আচার মেনে স্থাপিত হলো বিশ্বের বৃহত্তম শিবলিঙ্গ।
২৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই বিশালাকার বিগ্রহ স্থাপনের সময় আকাশ থেকে হেলিকপ্টারে পুষ্পবর্ষণ করা হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে এক অভাবনীয় উন্মাদনার সৃষ্টি করে।তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমে গ্রানাইট পাথর খোদাই করে নির্মিত এই শিবলিঙ্গটির প্রধান বিশেষত্ব হলো এর ‘সহস্রলিঙ্গ’ রূপ। পুরাণ মতে, মূল লিঙ্গের গায়ে ছোট ছোট ১০০৮টি লিঙ্গ খোদাই করা হয়েছে। ৩৩ ফুট উচ্চতার এবং ২১০ টন ওজনের এই বিশালাকার লিঙ্গটি গত ২১ নভেম্বর থেকে যাত্রা শুরু করে অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশ হয়ে দীর্ঘ দেড় মাস পর বিহারে এসে পৌঁছায়। শনিবার প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার ও গঙ্গোত্রীর মতো পাঁচটি পবিত্র স্থানের জল এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে এর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়।বলা হচ্ছে, এই বিরাট রামায়ণ মন্দিরটি আয়তনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনা হতে চলেছে। প্রায় ১০৮০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৫৪০ ফুট প্রস্থের এই মন্দিরে মোট ১৮টি চূড়া থাকবে, যার মধ্যে প্রধান চূড়াটির উচ্চতা হবে ২৭০ ফুট। পুরো মন্দির চত্বরে মোট ২২টি আলাদা মন্দির থাকবে এবং এর দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনী। বিশ্বের বৃহত্তম এই শিবলিঙ্গ স্থাপনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তর বিহারের এই অঞ্চলটি এক অন্যতম তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

