রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ত্রিপুরার উনকোটি জেলায় পুজোর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদ এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। শনিবার সকালে এক গাড়িচালকের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামান্য বাকবিতণ্ডা দ্রুত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, একদল উন্মত্ত দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে উনকোটি ও ফটিকরায় এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকান এবং যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হয়েছে কাঠের দোকানসহ বসতবাড়ির খড়ের গাদা, যার ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় রাজ্য পুলিশ, টিএসআর, সিআরপিএফ এবং অসম রাইফেলসের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জের পথ বেছে নিতে হয় এবং আকাশপথে ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে নজরদারি শুরু করা হয়।
বর্তমানে উনকোটি জেলাজুড়ে ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) ও কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া কোনোভাবেই যাতে গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা না বাড়ে, সেজন্য প্রশাসন সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রং দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে না পারে, সেজন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
