রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মেরিল্যান্ডের অ্যানাস্থেশিয়োলজিস্ট কুণাল সুদ সতর্ক করেছেন খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি পেটে ব্যথা শুরু হয়, তা কেবল হজমের সমস্যা বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যথা নিয়মিত হয় এবং সঙ্গে বমি ভাবও থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এর পেছনে গলব্লাডারে পাথর জমা হওয়ার মতো সমস্যা থাকতে পারে।পিত্তথলি বা গলব্লাডার লিভারের নিচে ডান দিক ঘেঁষে অবস্থিত একটি ছোট অঙ্গ। লিভারে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত পিত্ত এখানে জমা হয়।
তবে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিন জমে গেলে, বা পিত্তথলি ঠিকভাবে খালি না হলে পিত্তের উপাদানগুলো কঠিন হয়ে পাথরের আকার ধারণ করতে পারে। অনিয়মিত খাওয়া, ফ্যাটযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পাথর পিত্তরস নিঃসরণে বাধা দিলে পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।প্রথম দিকে লক্ষণগুলো সবসময় স্পষ্ট থাকে না, তাই অনেকেই ছোটখাটো উপসর্গ উপেক্ষা করে দেন। কিন্তু গলব্লাডারের পাথরের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পেটের ডান দিকের ব্যথা, যা কখনও কখনও ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। খাবার, বিশেষ করে ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ব্যথা বেড়ে যেতে পারে এবং বমি ভাবও দেখা দিতে পারে। একবার শুরু হলে এই ব্যথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট দিতে পারে।ডাক্তারের কথায়, মহিলাদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে অনিয়মিত খাবার, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, মেনোপজের পর হরমোন রিপ্লেসমেন্ট বা গর্ভনিরোধক বড়ি গ্রহণ, গর্ভাবস্থা এসব কারণ গলব্লাডারে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। পুরুষদের মধ্যেও অতিরিক্ত ওজন ও দীর্ঘদিন ধরে হজম সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাবার খাওয়ার পর পেট ব্যথা হলে এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখাই ভালো।

