রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বেলডাঙায় দু’দিন ধরে চলা অবরোধ ও উত্তেজনার মধ্যে শনিবার পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয় লাঠিচার্জের পথে। এই কর্মসূচির সময় র্যাফও মোতায়েন করা হয়।
পুলিশের অভিযানে ইতিমধ্যেই ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে কর্মরত এক পরিযায়ী শ্রমিকের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বেলডাঙায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের ফলে জনজীবন এবং পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়। শনিবার আবারও উত্তেজনা বাড়ে, বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে কয়েকশো মানুষ রাস্তা আটকে দেয় এবং রেলগেটের কাছে ভাঙচুর চালায়। বিক্ষোভকারীরা রেলের সিগন্যাল পোস্ট ভেঙে ফেলায় ট্রেন পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।দু’দিন ধরে বিক্ষোভ চলাকালেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ করছে না এমন অভিযোগ ওঠে। তবে শনিবার দুপুরে পুলিশ বাহিনী শক্তিশালীভাবে এলাকায় নামে এবং লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশও পাল্টা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এদিকে দুপুরে বেলডাঙায় পৌঁছান মুর্শিদাবাদের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি অবরোধকারীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন, কিন্তু তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও বচসা শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা হুমায়ুনের বক্তব্যে আপত্তি জানায় এবং অবরোধ না তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হুমায়ুনের সঙ্গে উত্তেজিত পরিস্থিতিতে বাক্য বিনিময়ের পর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।এই ঘটনায় দুই দিন ধরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। পুলিশ বলছে, বর্তমানে এলাকার প্রধান সড়কে কোনও অবরোধ নেই, তবে রেল সিগন্যাল ভাঙার কারণে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

