রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আজ ১২ জানুয়ারি, স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী এবং দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে 'জাতীয় যুব দিবস'।আজ ভারতমাতার বীর সন্তান স্বামী বিবেকানন্দের শুভ জন্মদিন। ১৮৬৩ সালের এই দিনে কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত, যিনি পরবর্তীতে স্বামী বিবেকানন্দ নামে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করেন।
আজকের এই পুণ্যলগ্নে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। ভারতের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে গোটা দেশ।স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও চিন্তাধারাকে যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে ভারত সরকার ১২ জানুয়ারিকে 'জাতীয় যুব দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে, যুব সমাজই হলো দেশের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর কালজয়ী বাণী "ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না" আজও লক্ষ লক্ষ তরুণকে অনুপ্রাণিত করে। এই বিশেষ দিনটি যুবকদের চারিত্রিক গঠন ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত করার এক বিশেষ সুযোগ হিসেবে পালন করা হয়।বিবেকানন্দের জন্মস্থান এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সদর দপ্তর বেলুর মঠে আজ সকাল থেকেই ভক্ত ও অনুরাগীদের ঢল নেমেছে।
বিশেষ আরতি, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং বিবেকানন্দের জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। সিমলা স্ট্রিটের পৈতৃক বাড়িতেও দিনটি বিশেষ মর্যাদার সাথে পালন করা হচ্ছে। মঠের সন্ন্যাসীরা বিবেকানন্দের শিক্ষার ওপর আলোকপাত করে যুব সমাজকে উন্নততর মানুষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।বর্তমান অস্থির সময়ে স্বামী বিবেকানন্দের নির্ভীকতা ও আত্মবিশ্বাসের বাণী অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি কেবল আধ্যাত্মিক গুরুই ছিলেন না, বরং এক আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তার অগ্রদূত ছিলেন। বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধনের যে পথ তিনি দেখিয়েছিলেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য দিশারি। নিজেকে চেনা এবং পরোপকারের যে আদর্শ তিনি প্রচার করেছিলেন, তা যুব দিবস উদযাপনের মাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।
