রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ইডির তল্লাশি অভিযান ঘিরে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার হল। ইতিমধ্যেই ইডি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কলকাতা ও সল্টলেকের দু’টি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একটি অভিযোগ শেক্সপিয়র সরণি থানায়, অন্যটি সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায়। অভিযোগ দায়েরের পরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
সূত্রের খবর, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি আবাসনের রেজিস্টারও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তল্লাশির দিন কারা বাড়িতে ও অফিসে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের পরিচয় জানতেই এই তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের বিষয়েও আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তির বয়ান নিয়েছেন তদন্তকারীরা।পুলিশের লক্ষ্য, তল্লাশি অভিযানে অংশ নেওয়া ইডি আধিকারিকদের পরিচয় নির্দিষ্ট করা। জানা গিয়েছে, ওই দিন অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ইডির এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন আধিকারিক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে এক জন মহিলা আধিকারিকও ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে ইডিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইমেল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
একই সঙ্গে ওই দিন ইডির তদন্তকারী দলের নিরাপত্তায় কোন কোন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন ছিলেন, তাও জানতে চাওয়া হচ্ছে। তল্লাশির সময় সিআরপিএফ জওয়ানেরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কোন ইউনিটের কত জন জওয়ান সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তা জানতে সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে এবং সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি। এই ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের দ্বারস্থ হন। তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে তিনি অভিযোগে জানান, দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি ওই বাড়ি ও দফতরে ছিল। অভিযোগে অনধিকার প্রবেশ, জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া, ভয় দেখানো-সহ একাধিক ধারার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ দায়েরের পর থেকে প্রতীক জৈনের বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী, পরিচারিকা এবং আবাসনের নিরাপত্তাকর্মীদের বয়ান নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে পারে পুলিশ। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ইডির ভূমিকা ঘিরে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী
