রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কেরলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি নেতা কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এবং জয়ের রূপরেখা তৈরি করতে তিরুঅনন্তপুরমে এক মেগা কনভেনশনে যোগ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গের মতোই কেরলের মাটিতেও ভোটপ্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
শাহের দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে এনডিএ যদি ৩০% ভোট নিশ্চিত করতে পারে, তবে কেরলের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাবে এবং আগামীতে দক্ষিণের এই রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হওয়াও অসম্ভব থাকবে না। তিরুঅনন্তপুরম পুর নিগমে এনডিএ র ঐতিহাসিক জয়ের পর এদিন শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরে পুজো দিয়েই কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। শাহ পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখান যে, ২০১৪ সালে যেখানে এনডিএ-র ভোট ছিল ১১%, তা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ২০% এ পৌঁছেছে। তাঁর মতে, পঞ্চায়েত ও পুরসভার এই সাফল্য সচিবালয় দখলের পথে কেবল একটি 'স্টেশন' মাত্র।
তবে দলের রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ কিছুটা চিন্তিত, কারণ লোকসভায় ভোট বাড়লেও বিধানসভা নির্বাচনে সেই ধারা বজায় থাকছে না; ২০২১ সালের বিধানসভায় বিজেপির ভোট কমে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১২.৫%-এ। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই শাহ অসম ও উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন যে, লড়াই কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। একসময়ে লোকসভায় মাত্র দুজন সাংসদ থাকা দল যদি আজ টানা তিনবার সরকার গড়তে পারে, তবে কেরলেও তা সম্ভব। বাম LDF ও কংগ্রেস UDF জোটের ওপর মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা কমছে দাবি করে শাহ বিজেপিকে সেই শূন্যস্থান পূরণের আহ্বান জানান। জয়ের জন্য তিনি কর্মীদের তিনটি মূল মন্ত্র বেঁধে দিয়েছেন উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং ধর্ম-বিশ্বাসের সুরক্ষা। শাহের স্পষ্ট বার্তা, নিচের তলার কর্মীদের পরিশ্রমই পারে ৪০% ভোটের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে কেরলে গেরুয়া শিবিরের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে।
