রাতদিন ওয়েবডেস্ক :মেয়ে একমাত্র প্রাণ ছিল মায়ের মেয়ের কোন অসুবিধা যেন দেখতেই পারতেন না মা। শেষমেষ মায়ের সেই ভালোবাসায় প্রাণ কেড়ে নিল মেয়ের। ক্লাস সিক্সের মেয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করতো এবং পড়ার চাপ নিতে পারছিল না সে। তাই মেয়ের যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই চাপ থেকে মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই নাকি মেয়েকে গলা টিপে খুন করেছেন মা। ঘটনাটি শুক্রবার ভোরের ব্যারাকপুর আনন্দপুরী ডি রোডে ঘটেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ের মা অর্থাৎ কবিতা ঘোষ কে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন কবিতা ইতিমধ্যেই তিনি শ্বাসরোধ করে খুন করেছে তার মেয়েকে। এরপর শনিবার ব্যারাকপুর মহাকুমা আদালত থেকে তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইন্দ্রজিৎ ঘোষ কবিতা ঘোষের স্বামী ইতিমধ্যে জানিয়েছেন স্ত্রী কবিতা ঘোষ মানসিক রোগ স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত।
ইন্দ্রজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন এদিন অতি বৃষ্টির জন্য কাজে যাননি ইন্দ্রজিৎ। এদিকে দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পরেও স্ত্রী ঘুম থেকে ওঠেননি। কয়েকবার ডাকাডাকির পরেও উত্তর না মেলায় শেষে থানায় খবর দেন তিনি। এরপর পুলিশ দরজা ভাঙতে দেখে বিছানায় শুয়ে রয়েছে মেয়ে। এবং সেই মেয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন মা এরপর রাজন্যাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর তদন্তকারীরা জানিয়েছেন শুক্রবার ভোরের দিকেই ঘুমের মধ্যে মেপে গলা টিপে খুন করেছেন মা। কবিতা ঘোষ মনে করেছেন তার ক্লাস সিক্সে পড়া মেয়ে পড়ার চাপ আর নিতে পারছিল না।
তাই সেই চাপ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যই গলা টিপে খুন করেছেন তাকে। এ বিষয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার আলোক রাজিয়া জানিয়েছেন, " মৃতের মায়ের মানসিক সমস্যা ছিল। নিয়মিত ওষুধখেতেন। মানসিক অবস্থার জন্যই এই অঘটন ঘটিয়ে থাকতে পারেন। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় মা গলা টিপে খুন করেছে। "

