রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের তরফে বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসে পৌঁছেছেন দিল্লির এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক, যিনি বর্তমানে সিনিয়র ডেপুটি কমিশনার পদে কর্মরত। তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসন কতটা প্রস্তুত তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা।
সূত্রের খবর, তিনি ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। এই বৈঠকগুলিতে ভোটের সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি, সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিতকরণ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, রুট মার্চের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি, নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়েও কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আধিকারিক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব, তাই ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এদিকে, তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, কেন্দ্রের এই সক্রিয়তা রাজ্যে নিরপেক্ষ ভোট করানোর জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ, অন্যদিকে শাসকদলের তরফে পাল্টা বলা হয়েছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো এবং বাহিরের কোনও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোনও অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই কারণেই আগেভাগে এই ধরনের তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনও বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের ব্যবস্থা করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটারদের সচেতন করতে প্রচার অভিযানও চালানো হচ্ছে যাতে সবাই নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক তাঁর সফরের শেষে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন বলে জানা গিয়েছে, যেখানে রাজ্যের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশের উল্লেখ থাকবে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা যে তুঙ্গে, তা এই সফরের মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষের নজর এখন আসন্ন ভোট প্রক্রিয়ার দিকেই।

