রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ওড়িশায় এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে এক আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই উচ্চপদস্থ আমলা এক ব্যক্তিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে প্রভাবশালী ও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন এবং তাকে বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি কাজের সুযোগ করে দেওয়া, ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ স্থাপনের মতো নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার টাকা নেন তিনি। প্রথমদিকে ভুক্তভোগী অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করে ছোট অঙ্কের টাকা দিলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সেই অঙ্ক বাড়তে থাকে এবং মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মতো কোনো কাজ বাস্তবে না হওয়ায় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্রমশ যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে শুরু করলে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপরই ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং অন্যান্য নথি সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে ঠিক কীভাবে এই প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের সঙ্গে অন্য কারও যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, কারণ একজন আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ সাধারণ মানুষের আস্থার উপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ভুক্তভোগী ব্যক্তি দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন এবং তার হারানো অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুরো ঘটনাটি সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তদন্তের ফলাফল সামনে এলেই পরিষ্কার হবে অভিযোগ কতটা সত্য এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে।

