Type Here to Get Search Results !

Annapurna Bhandar : অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঘোষণা বিজেপির, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের একবার ভাতা রাজনীতি কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজ্যের শাসক দল মমতা ব্যানার্জীর জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে বড় ঘোষণা করেছে  বিজেপি। মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করেই এই নতুন প্রতিশ্রুতি সামনে আনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। 

বর্তমানে রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে নির্দিষ্ট ভাতা পান, যা রাজ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প হিসেবে পরিচিত।  এই প্রকল্পের সাফল্যকে মাথায় রেখেই বিজেপি তাদের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে, যা বর্তমান প্রকল্পের তুলনায় অনেকটাই বেশি।  বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে এবং পরিবারিক অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি এই ঘোষণার সঙ্গে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক প্যাকেজের কথাও বলা হয়েছে, যার পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। তবে এই প্রকল্প কার্যকর করতে গেলে কী কী যোগ্যতা লাগবে বা কারা এই ভাতা পাবেন, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, শাসক দল এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বারবার দাবি করা হচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ইতিমধ্যেই কোটি কোটি মহিলার কাছে পৌঁছে গিয়েছে এবং এটি তাদের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি বিরোধী দলগুলির এই ধরনের প্রতিশ্রুতিকে বিভ্রান্তিকর বলেও অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা নিয়ে এই প্রতিযোগিতা নতুন নয়, তবে এবার প্রতিশ্রুতির অঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারের মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের প্রকল্পের প্রভাব যথেষ্ট বেশি, ফলে নির্বাচনের ফলাফলেও এর বড় ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য তারা শুধুমাত্র ভাতা নয়, কর্মসংস্থান, শিল্পোন্নয়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের দিকেও জোর দেবে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের চলমান প্রকল্পগুলির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ এখন রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে, যেখানে মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিই হয়ে উঠছে প্রধান অস্ত্র।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad