রাতদিন ওয়েবডেস্ক : গ্রীষ্মের দাবদাহে ক্লান্তি কাটাতে সাধারণ কোমল পানীয় বা সোডার বদলে পুষ্টিকর মিল্কশেকই হতে পারে স্বাস্থ্যকর বিকল্প, এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখা ও একই সঙ্গে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে মিল্কশেকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা হতে হবে সঠিক উপায়ে তৈরি।
অতিরিক্ত চিনি বা মিল্কমেড যুক্ত মিল্কশেক শরীরের উপকারের বদলে ক্যালোরি বাড়িয়ে দিতে পারে, ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই মিল্কশেক বানানোর ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদান ও কম মিষ্টি ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়। গরমের দুপুর কিংবা বিকেলে এক গ্লাস ঠান্ডা মিল্কশেক যেমন ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে, তেমনই এটি অতিথি আপ্যায়নেও একটি আদর্শ পানীয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমনকি ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি মিল্কশেক পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এর মধ্যে অন্যতম হল ওটস-আপেল এনার্জি শেক, যা ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর। আপেল, ওটস, দুধ ও খেজুরের সংমিশ্রণে তৈরি এই পানীয় শরীরকে শক্তি জোগায়। অন্যদিকে ডাব-মালাই শেক গরমে বিশেষ উপকারী, কারণ এতে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়াও চকোলেট পিনাট বাটার মিল্কশেক প্রোটিন, ক্যালশিয়াম ও ফাইবারে ভরপুর হওয়ায় এটি একপ্রকার শক্তিবর্ধক পানীয় হিসেবেও কাজ করে। ডার্ক চকোলেটের উপস্থিতি এই পানীয়কে আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলে। একই ভাবে খেজুর-বাদামের শেক আয়রন ও ক্যালশিয়ামে সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। পাকা পেঁপে দিয়ে তৈরি স্মুদিও গ্রীষ্মের জন্য উপযোগী একটি পানীয়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর মিল্কশেক তৈরির ক্ষেত্রে আইসক্রিম বা অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে প্রাকৃতিক মিষ্টি যেমন খেজুর বা মধু ব্যবহার করা উচিত। এতে পানীয়টি যেমন সুস্বাদু হয়, তেমনই শরীরের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হয়। পাশাপাশি ফল, বাদাম, ওটস বা বীজজাতীয় উপাদান যোগ করলে মিল্কশেক আরও বেশি পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে বলা যায়, সঠিক উপায়ে তৈরি মিল্কশেক গরমে শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, বরং শরীরকে সুস্থ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা এই ঋতুতে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যতম উপাদান হয়ে উঠতে পারে।

