রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দুটি টানা জয়ে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালস শিবিরে। জয়ের হ্যাটট্রিকের লক্ষ্য নিয়েই বুধবার ঘরের মাঠে তারা মুখোমুখি হতে চলেছে গুজরাত টাইটান্সের। অন্যদিকে, টানা দুই পরাজয়ে চাপে রয়েছে গুজরাত। তবে অধিনায়ক শুভমান গিলের চোট কাটিয়ে ফিরে আসা দলকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে।দিল্লির প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের অন্যতম নায়ক সমীর রিজভি। দলের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা অনেকটাই ঢেকে দিয়েছেন তিনি।
তবে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার লোকেশ রাহুল এবং নীতীশ রানার ফর্ম নিয়ে চিন্তা বাড়ছে টিম ম্যানেজমেন্টের। বিশেষ করে রাহুল এখনও পর্যন্ত নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। টপ অর্ডার দ্রুত ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নিতে পারেন ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবসের মতো বিদেশি ব্যাটাররা। পাশাপাশি অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল এবং স্পিনার বিপরাজ নিগমও প্রয়োজনে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।বোলিং বিভাগে দিল্লির ভারসাম্য বেশ নজরকাড়া। তিন পেসার ও তিন স্পিনারের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণ প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে। নতুন বলে মুকেশ কুমার এবং লুঙ্গি এনগিডি শুরুটা ভালোই করছেন। ডেথ ওভারে টি নটরাজনের উপর ভরসা রাখছে দল। তবে এই ম্যাচে গুজরাতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে আটকাতে স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব এবং বিপরাজ নিগমের ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা সমস্যায় পড়তে পারেন।গুজরাত টাইটান্সের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর শুভমান গিলের প্রত্যাবর্তন। তাঁর অনুপস্থিতিতে গত ম্যাচে দলের ব্যাটিং দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সাধারণত গিল ও সাই সুদর্শন ওপেনিং জুটিতে বড় রানের ভিত গড়ে দেন। তাঁদের বোঝাপড়া ও ধারাবাহিকতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গিল ফিরে আসায় সুদর্শনও অনেকটাই চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারবেন। গত ম্যাচে ৭৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে তিনি নিজের ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দিল্লির বোলারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।মিডল অর্ডারে গুজরাতের ভরসা জস বাটলার, গ্লেন ফিলিপস, রাহুল তেওয়াটিয়া এবং ওয়াশিংটন সুন্দর। অভিজ্ঞতা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার জন্য এই ব্যাটাররা যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। যদিও তরুণ কুমার কুশাগ্র গত ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি, তবে তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা রয়েছে দলের।বোলিং বিভাগেও গুজরাত যথেষ্ট শক্তিশালী। পেস আক্রমণে কাগিসো রাবাডা, মহম্মদ সিরাজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার মতো অভিজ্ঞ বোলাররা রয়েছেন। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে রশিদ খান বড় অস্ত্র। শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। এই ম্যাচে তিনি দলের ট্রাম্প কার্ড হয়ে উঠতে পারেন।

