রাতদিন ওয়েবডেস্ক : উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর এলাকায় এক ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করার অপরাধে এক কর্মীকে চরম নৃশংসতার শিকার হতে হলো। সামান্য তর্কের জেরে ওই কর্মীর চুলের মুঠি ধরে ফুটন্ত দুধের বালতিতে চুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোদপুর ঘোলা রোডের ওপর অবস্থিত একটি নামী মিষ্টির দোকানে এই ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্ত যুবক ওই দোকানে দীর্ঘ দিন ধরে কারিগরের কাজ করতেন।
ঘটনার দিন কাজ চলাকালীন কোনো একটি বিষয় নিয়ে মালিকের সঙ্গে ওই কর্মীর বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথা কাটাকাটি যখন চরমে পৌঁছায়, তখন মেজাজ হারিয়ে ফেলেন দোকানের মালিক।অভিযোগ অনুযায়ী, রাগের মাথায় মালিক ওই কর্মীর চুলের মুঠি ধরেন এবং পাশে রাখা ফুটন্ত গরম দুধের একটি বালতিতে তার মাথা ও মুখ জোরপূর্বক চুবিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠেন ওই কর্মী। ফুটন্ত দুধের সংস্পর্শে আসায় তার মুখ, গলা এবং বুক মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। আর্ত চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ ও দোকানের অন্য কর্মীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।এই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং অভিযুক্ত মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঘোলা থানার পুলিশ। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত দোকান মালিকের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং গুরুতর আঘাত করার মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক, তবে তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।শ্রমিকের ওপর মালিকের এই ধরণের মধ্যযুগীয় বর্বরতা আধুনিক সমাজে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। সামান্য ভুলের জন্য বা তর্কের খাতিরে একজন মানুষের প্রাণ সংশয় হতে পারে এমন আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ ও কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

