Type Here to Get Search Results !

Mamata Banerjee : প্রশাসনিক বৈঠকে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি এক প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে বাইরে থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা, মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য এরাজ্যে প্রবেশ করছে। এই ঘটনাকে তিনি রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলার পথে এক বড় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, প্রতিবেশী রাজ্য এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবহার করে একদল দুষ্কৃতী ও অসাধু চক্র এই ধরনের অবৈধ কারবার চালাচ্ছে। 

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বাইরে থেকে টাকা, মাদক ও অস্ত্র আসছে। এগুলো কেন আটকানো যাচ্ছে না?" এই পরিস্থিতিতে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা এবং নাকা চেকিংয়ের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, প্রতিটি থানার আইসি এবং এসপিদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগকে (CID ও IB) আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, যদি সঠিক সময়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়, তবে এই অনুপ্রবেশ রোখা সম্ভব। তিনি বলেন, "পুলিশকে আরও গ্রাউন্ড লেভেলে কাজ করতে হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে এই চক্রের শিকড় খুঁজে বের করতে হবে।"মাদক পাচার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, যুবসমাজকে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই মাদক রাজ্যে ছড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি, অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অপরাধীদের কোনো দল বা রঙ দেখা হবে না; কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।মুখ্যমন্ত্রী পরোক্ষভাবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও এজেন্সিগুলোর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যেহেতু আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর, তাই সেখান দিয়ে কীভাবে এই সব নিষিদ্ধ দ্রব্য আসছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। রাজ্যের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশকেই মূল দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, আসন্ন দিনগুলোতে পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে। রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই অসাধু পাচারচক্রকে সমূলে বিনাশ করতে রাজ্য সরকার কোনো আপস করবে না। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হলে প্রশাসন কড়া হাতে তার মোকাবিলা করবে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad