রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আসন্ন নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। সেই আবহে এক উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রার্থী। এদিন মনোনয়ন কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে কর্মী-সমর্থকদের যে স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস দেখা গেল, তাকে কার্যত এক 'বিজয় মিছিলের' রূপ বলে বর্ণনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাক-ঢোল ও তাসা পার্টি নিয়ে মিছিলে সামিল হন কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী। দলীয় পতাকা, ফেস্টুন এবং প্রার্থীর কাট-আউটে ছেয়ে যায় চারপাশ।
এই জনজোয়ার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, উন্নয়নের নিরিখে মানুষের আস্থা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলটির ওপর অটুট রয়েছে। এদিন প্রার্থীরা হুডখোলা গাড়িতে চড়ে জনসাধারণের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রার্থীরা সমস্বরে জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত বলে দাবি করেন। তাঁদের কথায়, "বিরোধীরা কেবল কুৎসা করতে জানে, কিন্তু আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি। গত কয়েক বছরে রাস্তাঘাট, জল, বিদ্যুৎ এবং শিক্ষার যে প্রভূত উন্নতি হয়েছে, তার প্রতিদান মানুষ ব্যালট বাক্সে দেবেন।" মিছিলে সাধারণ মানুষের ভিড় দেখে প্রার্থীরা মন্তব্য করেন যে, এই ভিড়ই প্রমাণ করছে মানুষ বিরোধীদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং শান্তির পক্ষেই ভোট দেবে।বিরোধী দলগুলি যদিও এই মিছিলকে 'পেশিশক্তি প্রদর্শন' বলে কটাক্ষ করেছে, তবে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো শক্তি প্রদর্শন নয় বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার প্রতিফলন। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুফল পাওয়া মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের মতে, বিরোধী শিবির লড়াইয়ে নেই বলেই এখন এই ধরনের অভিযোগ তুলছে।মিছিলের শেষ মাথা পর্যন্ত নজরকাড়া জনসমাগম প্রমান করছে যে, ঘাসফুল শিবির তাদের ঘর গুছিয়ে ভোটের ময়দানে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। এখন দেখার, এই 'জনজোয়ার' আগামী দিনে ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়। তবে এদিনের চিত্র থেকে এটা পরিষ্কার যে, জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

