রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘ টানাপড়েনের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের সব শর্ত মেনে নিয়ে কোনো আপস করবে না আমেরিকা। যদি ইরান নির্দিষ্ট শর্তে রাজি না হয়, তবে কোনো চুক্তিই সম্ভব নয়।সম্প্রতি পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে এক ম্যারাথন বৈঠক চলে।
লক্ষ্য ছিল একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি। কিন্তু সেই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আলোচনার টেবিলে ইরান যথেষ্ট সদিচ্ছা দেখালেও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়ে গিয়েছে। এই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরই ইরানের ওপর চাপের কৌশল হিসেবে ‘হরমুজ় প্রণালী’ অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।সোমবার সন্ধ্যা থেকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের বন্দরগুলিকে লক্ষ্য করে অবরোধ শুরু করেছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো ইরানি জাহাজ যদি এই অবরোধের সীমানায় আসার চেষ্টা করে, তবে সেটিকে সরাসরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, "ইরান আমাদের সঙ্গে চুক্তি করতে খুব আগ্রহী হলেও আমরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তির প্রশ্নে অনড়।"অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও আমেরিকার একতরফা অবরোধ ও হুমকি মেনে নেবে না। ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ়ে মার্কিন উপস্থিতিকে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে তাদেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাত বর্তমানে এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া, অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে তিনি তেহরানকে কোনঠাসা করতে চাইছেন। এই জটিল পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কোনো নতুন আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে কি না, নাকি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো যুদ্ধের সূচনা হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব।

