রাতদিন ওয়েবডেস্ক : প্রশাসনের তরফে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী এলাকাজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হলে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে অনুমতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিধাননগর প্রশাসন ও নির্বাচন দফতরের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫,০০০টিরও বেশি বেআইনি পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিং এবং অন্যান্য প্রচার সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে জনসমক্ষে প্রচার চালাতে পারে না, বিশেষ করে সরকারি সম্পত্তি, বৈদ্যুতিক খুঁটি, দেওয়াল বা জনবহুল এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রচারসামগ্রী লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা যায়, এই নিয়মকে উপেক্ষা করে একাধিক জায়গায় প্রচার চালানো হচ্ছিল, যার ফলে পরিবেশ দূষণ এবং নাগরিক অসুবিধারও সৃষ্টি হচ্ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন এবং বিশেষ টিম গঠন করে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে পুরসভার কর্মী, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা রাস্তার ধারে, মোড়ে, বাজার এলাকায় এবং আবাসিক অঞ্চলে লাগানো সমস্ত বেআইনি প্রচার সামগ্রী চিহ্নিত করে দ্রুত সরিয়ে দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হতে পারে। একই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আচরণবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কেউ যদি এই নিয়ম ভঙ্গ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষও। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত প্রচারসামগ্রী শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি জনজীবনে বিঘ্ন ঘটায়, তাই এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘন না ঘটে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আইন সবার জন্য সমান এবং নির্বাচনের সময় কোনওরকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। ফলে আগামী দিনে বিধাননগরে নির্বাচনী প্রচারে আরও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

