রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দিল্লির একটি আদালত বিনেশ চন্দেল-কে ১০ দিনের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত চন্দেলকে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে পেশ করা হলে তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি আর্থিক লেনদেন ও তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেই এই তদন্ত শুরু হয় এবং সেই সূত্র ধরেই চন্দেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, এই মামলায় একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই কারণেই বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চন্দেলকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাঁকে অযথা হেনস্তা করা হচ্ছে, পাশাপাশি তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলেও আদালতকে জানান। তবে আদালত তদন্তের স্বার্থে ইডির আবেদন মঞ্জুর করে এবং স্পষ্ট জানায় যে, মামলার প্রকৃতি ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই মুহূর্তে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য,আইপ্যাক (I-PAC) একটি রাজনৈতিক কনসালটেন্সি সংস্থা, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কৌশল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, ফলে এই গ্রেপ্তারি ও তদন্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আইপ্যাকের সক্রিয় ভূমিকা থাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে এবং বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। ইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। আদালতের এই নির্দেশের পর আগামী কয়েকদিন ইডির জেরায় কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষেরও।

