রাতদিন ওয়েবডেস্ক : রাজ্য সরকারের নতুন যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় বেকার ভাতা পাওয়ার আশায় লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী আবেদন জমা দিয়েছেন এবং বর্তমানে এই আবেদন প্রক্রিয়া ও তার পরবর্তী ধাপ নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই যুগান্তকারী প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢোকা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যার ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে এখন নিজেদের আবেদনের বর্তমান স্থিতি বা স্ট্যাটাস জানার প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৮৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে বড় একটি অংশ অর্থাৎ প্রায় ৬৫ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে বিভিন্ন ব্লক স্তরে আয়োজিত অফলাইন শিবিরের মাধ্যমে এবং বাকি প্রায় ১৯ লক্ষ যুবক-যুবতী অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন, তারা বাংলা যুবসাথী পোর্টালে গিয়ে তাদের রেজিস্টার্ড ফোন নম্বর এবং ওটিপি ব্যবহার করে লগ-ইন করার মাধ্যমে খুব সহজেই নিজেদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করতে পারছেন সেখানে সফলভাবে আবেদনকারীদের দুয়ারে সরকার প্রকল্পের সেই পরিচিত ২৫ সংখ্যার রেজিস্ট্রেশন নম্বরটিও প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে অফলাইনে যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে স্ট্যাটাস চেক করার প্রক্রিয়াটি এখনও কিছুটা জটিল রয়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ওটিপি দেওয়ার পর পুনরায় ফর্ম ফিলাপের নির্দেশ আসায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যদিও প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
যদি কারও ফর্মে কোনো ত্রুটি থেকে থাকে বা অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করার সময় অবজেকশন বা ডিসপুট জাতীয় কোনো লেখা ফুটে ওঠে, তবে ভবিষ্যতে অনলাইন এডিট অপশন চালু হলে বা সরাসরি ব্লক অফিসে যোগাযোগ করে সেই ভুল সংশোধন করার সুযোগ পাওয়া যাবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলছে যাতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরাই এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। এই বিশাল সংখ্যক কর্মহীন যুবক-যুবতীর জন্য এই মাসিক ভাতা কেবল একটি আর্থিক সাহায্য নয়, বরং তাদের স্বনির্ভর হওয়ার পথে একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই আবেদনকারীদের নিয়মিত সরকারি পোর্টাল পর্যবেক্ষণ করার এবং যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে স্থানীয় বিডিও বা এসডিও অফিসের নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ ১ এপ্রিলের সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠছে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটিকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে।

