রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। সাধারণত অ্যালুমিনিয়াম বা ধাতব পদার্থ দিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তৈরি করা হলেও জাপান এবার মহাকাশে পাঠিয়েছে কাঠের স্যাটেলাইট। লিগনোস্যাট নামক এই ক্ষুদ্র স্যাটেলাইট মূলত ম্যাগনোলিয়া কাঠ দিয়ে তৈরি। প্যানেলগুলো যুক্ত করতে কোনো স্ক্রু বা আঠা ব্যবহার করা হয়নি। জাপানের ঐতিহ্যবাহী কাঠের জোড়া লাগানোর কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।মহাকাশে বায়ুমণ্ডল বা পানির উপস্থিতি নেই। সেখানে জীবাণুর আক্রমণ হওয়ারও কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই কাঠের হলেও পচে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকছে না। কোনোভাবে যদি এটা কক্ষপথ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তাহলে সম্পূর্ণ পুড়ে যাবে, কোনো ক্ষতিকর ধাতব অবশিষ্টাংশ রেখে যাবে না। এটি বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে ধাতব কণা জমে থাকা রোধ করে।
লিগনোস্যাটের বৈশিষ্ট্য লিগনোস্যাট একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ ‘কাঠ’। স্যাটেলাইটটি হাতের তালুর সমান। এটি মহাকাশে মানুষের বসবাসের জন্য কাঠকে একটি পুনঃ ব্যবহারযোগ্য উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করবে। লিগনোস্যাট ছয় মাস কক্ষপথে থাকবে এবং মহাকাশের চরম পরিবেশে কাঠ কতটুকু টিকে রয়েছে তা পরিমাপ করবে এর বৈদ্যুতিক উপাদানগুলো।উৎক্ষেপণ ও পরীক্ষা লিগনোস্যাট প্রথমে স্পেসএক্স মিশনের মাধ্যমে কেনজি কারিয়া আরও বলেন, সভ্যতা চাঁদ এবং মঙ্গলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাই এই সময়ে কাঠকে পুরোনো প্রযুক্তি বলে মনে হতে পারে। তবে এটি আসলে আধুনিক প্রযুক্তি।
২০২৭ সালে লিগনোস্যাট ২ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।মহাকাশে কাঠের ব্যবহার মহাকাশে কাঠের ব্যবহার কেবল প্রতীকী নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশগত কারণ। গবেষকেরা তিনটি প্রজাতির কাঠের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছিলেন, ম্যাগনোলিয়া বা হোনোকি প্রথম দফার পরীক্ষায় লিগনোস্যাট কক্ষপথে ১১৬ দিন অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠিয়েছে।বিশ্বের প্রথম কাঠের স্যাটেলাইট জাপানের গবেষকেরা বিশ্বের প্রথম কাঠের তৈরি স্যাটেলাইট তৈরি করেছে। গত মঙ্গলবার স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি চাঁদ ও মঙ্গলে অভিযানের জন্য কাঠ ব্যবহারের একটি প্রাথমিক পরীক্ষা।পরিবেশগত প্রভাব কাঠ একটি নবায়নযোগ্য উপাদান, যা মহাকাশ গবেষণাকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে। অধিকাংশ স্যাটেলাইট অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। যখন স্যাটেলাইটের মেয়াদ শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করে, তখন তা পুড়ে গিয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের ক্ষুদ্র কণা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ছড়িয়ে দেয়। এই কণাগুলো পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।লিগনোস্যাট মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। কাঠের স্যাটেলাইট মহাকাশের আবর্জনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং মহাকাশ গবেষণাকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে।

