রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশ্যেই উষ্মা প্রকাশ করলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপাদি মুর্মু । শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী -কে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “জানি না, মমতাদির আমার উপর কেন রাগ!”শনিবার বাগডোগরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাঠে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে পৌঁছন রাষ্ট্রপতি। তবে অনুষ্ঠানে প্রত্যাশিত ভিড় চোখে পড়েনি। অধিকাংশ চেয়ারই ফাঁকা ছিল। সেই দৃশ্য দেখে মঞ্চ থেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “এটা যে একটা ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কনফারেন্স, দেখে তো মনেই হচ্ছে না!”রাষ্ট্রপতি হিসেবে এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর সফর প্রথমে শুক্রবার হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে শনিবার করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমার দেখে মনে হচ্ছে না সাঁওতাল সমাজ বা আদিবাসী সমাজের মানুষ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। আদৌ তারা সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”এরপর তিনি যান ফাঁসিদেওয়া এলাকার বিধাননগরে। পূর্বনির্ধারিত ভাবে ওই জায়গায় অনুষ্ঠানের আয়োজন হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। সেখানে পৌঁছে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি।সেখান থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমাকে বলা হয়েছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই। অথচ এখানে তো কয়েক লক্ষ মানুষ সহজেই থাকতে পারেন।”মুখ্যমন্ত্রীকে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোটবোনের মতো। জানি না আমার উপর তাঁর এত রাগ কেন। যাই হোক, আমার কোনও অভিযোগ নেই, কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভালো থাকুন, আপনারাও ভালো থাকুন।”
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা । তিনিও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের রাষ্ট্রপতি আসার পরও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক ব্যবস্থাপনা করা হয়নি। এমনকি তিনি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিও তোলেন।উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির এই অনুষ্ঠানে বিজেপির একাধিক জনপ্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও নেতাকে দেখা যায়নি। যদিও দর্শকাসনে কয়েকজন তৃণমূল প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহ-সভাধিপতি রোমা রাশ্মি এক্কা বলেন, তাঁদের আগে থেকে সঠিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, যোগাযোগের অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের আগেভাগে কিছুই জানানো হয়নি। সঠিক সমন্বয় থাকলে আমরা সব রকম সহযোগিতা করতাম। অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু মঞ্চে বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কেরাই ছিলেন।”

