রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দোলের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল ভয়াবহ ঘটনায়। খেলার ছলে দিদাকে রং মাখাতে গিয়ে মারাত্মক বিপদের মুখে পড়ল ৪ বছরের এক শিশু। রাগের বশে নাতির গায়ে গরম জল ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধার বিরুদ্ধে। গরম জল শরীরে পড়তেই যন্ত্রণায় ছটফট করতে শুরু করে বালকটি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে নাগপুর শহরের Koradi এলাকায়। সমাজমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম X (Twitter)-এ ‘সূরজ কুমার বৌদ্ধ’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনাটির ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। সেই ভিডিয়োতেই ধরা পড়ে গোটা ঘটনার দৃশ্য।ভিডিয়োয় দেখা যায়, এক বৃদ্ধা জলভর্তি একটি বালতি হাতে নিয়ে হাঁটছিলেন। ঠিক সেই সময় তাঁর চার বছরের নাতি খেলার ছলে দিদাকে রং মাখাতে এগিয়ে আসে। কিন্তু নাতির এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বৃদ্ধা। অভিযোগ, রাগের মাথায় হাতে থাকা বালতি থেকেই গরম জল ছুড়ে দেন শিশুটির গায়ের উপর। মুহূর্তের মধ্যে গরম জল শরীরে পড়তেই যন্ত্রণায় ছটফট করতে শুরু করে বালকটি।ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক কিশোরী পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বালকের গায়ে ঠান্ডা জল ঢেলে দেয়। পরে বৃদ্ধাও নাতির গায়ে এক বালতি জল ঢালেন। তবে ততক্ষণে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়ে পড়ে শিশুটি।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বৃদ্ধার নাম সিন্ধু ঠাকরে (৬০)। আহত শিশুটির নাম ওঁম ভেঙে (৪)। পড়াশোনার কারণে ওম তার মামা এবং দিদার সঙ্গে ওই এলাকায় থাকত।
তার বাবা-মা থাকেন খ্যাপারখেদা এলাকার চঙ্কাপুরে।দোলের দিন দিদাকে রং মাখাতে গিয়ে এই বিপদের মুখে পড়ে ওম। অভিযোগ, নাতি যে রং মাখাতে আসছে তা মোটেই পছন্দ হয়নি বৃদ্ধার। বিরক্ত হয়ে এবং রাগের বশে তাকে সরিয়ে দিতে গিয়েই বালতি থেকে গরম জল ঢেলে দেন তিনি।গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত শিশুটিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের দাবি, বালকটির শরীরের প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।এই ঘটনায় করাদি পুলিশ স্টেশন-এ অভিযুক্ত বৃদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায়া সংহিতা-র ১১৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আইন অনুযায়ী এই অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।তবে পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত বৃদ্ধার বয়সজনিত কারণে এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে। দোলের আনন্দঘন পরিবেশে এমন নির্মম ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

