রাতদিন প্রতিবেদন : নতুন প্রকাশিত ভোটার তালিকাকে ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে মালদহ জেলায়। কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূর অভিযোগ করেছেন, বিপুল সংখ্যক ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন ভোটার থাকার ফলে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়া কঠিন। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ভোট বয়কটের পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।সোমবার দক্ষিণ মালদহ কেন্দ্রের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী-র সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন মৌসম।
তিনি বলেন, “যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচন সম্ভব নয়। বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় না-এলে ভোট বয়কটের বিষয়টি নেতৃত্বকে জানাব।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খড়্গে-র কাছে তুলে ধরা হবে।জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মালদহে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। এর মধ্যে বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন। সদ্য প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৩ জন ভোটার। খসড়া তালিকাতেই বাদ পড়েছিলেন ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৭৩ জন। অর্থাৎ নতুন করে বাদ গিয়েছে ১৮ হাজার ২৮০ জনের নাম। শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন ১০ লক্ষ ৩ হাজার মানুষ, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।একই পরিস্থিতি মুর্শিদাবাদ জেলাতেও। সেখানে বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষ ১১ হাজার ৪৫৪। রাজ্য জুড়ে এই সংখ্যা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে কলকাতা হাই কোর্ট-এর নিযুক্ত বিচারকেরা নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। যাচাই সম্পন্ন হলে যোগ্য ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মৌসমের দাবি, বিবেচনাধীন ভোটারদের যথাযথ ভাবে তালিকাভুক্ত না করলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাঁর কথায়, “এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।” প্রয়োজনে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস ইতিমধ্যে একটি বিবৃতি জারি করে এই প্রক্রিয়াকে ‘ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, তথাকথিত তথ্যগত অসঙ্গতির অজুহাতে বিপুল সংখ্যক নাম বিবেচনাধীন রেখে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মূল তালিকা থেকে দূরে রাখা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।তবে মৌসমের ভোট বয়কট মন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি বলেন, “উনি ঠিক কী বলেছেন না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়। তবে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদ করা প্রত্যেক কংগ্রেস কর্মীর দায়িত্ব।” তাঁর সংযোজন, “এটা কেবল যুক্তিগত অসঙ্গতি নয়, রাজনৈতিক অসঙ্গতির বিষয়।”সব মিলিয়ে বিবেচনাধীন ভোটারদের ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও নথি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্ক যে অব্যাহত থাকবে, তা স্পষ্ট।

