রাতদিন প্রতিবেদন : ইরান, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা পশ্চিম এশিয়া। সামরিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ায় সেখানে বসবাসকারী ও কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী।সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইজ়রায়েলি হামলার জেরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে।
পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উড়ান সংস্থা আপাতত বিমান পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। কিছু দেশ তাদের আকাশসীমাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বহু ভারতীয় নাগরিক সেই সব দেশে কার্যত আটকে পড়েছেন।প্রহ্লাদ জোশী সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে থাকা ভারতীয় দূতাবাস ও মিশনগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কী ভাবে সেখান থেকে নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখনই ভারতীয় নাগরিকরা বিপদের মুখে পড়েছেন, তখনই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অতীতের মতো এবারও একই ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকার সব ভারতীয়কে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”এ দিন কর্নাটক সরকারের তরফে জানানো হয়, তাদের রাজ্যের অন্তত ১০০ জনের বেশি নাগরিক বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে প্রহ্লাদ বলেন, কর্নাটকবাসীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্র অবগত এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে।
উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।বিদেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে রবিবার বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটিতে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে আমরা একযোগে কাজ করছি। ভারত চায় আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হোক।”বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিমান চলাচলেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে আপাতত কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা।সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে উদ্বেগ বাড়লেও কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।

