রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমানে ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের ওপর বড়সড় সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে কোটি কোটি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন বাজেটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে ভারতের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এলপিজি সিলিন্ডারের প্রচলিত ওজন কমিয়ে দেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।
বর্তমানে রান্নার গ্যাসের একটি সিলিন্ডারে সাধারণত ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে, যা কমিয়ে ১০ কেজিতে নামিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা সরকারের টেবিলে রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস পাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়। হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যার মাধ্যমে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। ওই অঞ্চলে সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে ভারতে এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের খামতি দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বল্প পরিমাণ মজুত গ্যাস দিয়ে বেশি সংখ্যক গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে সিলিন্ডারের ওজন কমিয়ে ১০ কেজি করা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। ওজনে কম সিলিন্ডার বাজারে আনলে সরবরাহ চক্রটি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি ১৪.২ কেজির ভারী সিলিন্ডার বহন করা অনেক ক্ষেত্রেই কষ্টসাধ্য, তাই ১০ কেজির ছোট সিলিন্ডার ব্যবহারের সুবিধার কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে ওজনের এই পরিবর্তন হলে দামের ক্ষেত্রেও সামঞ্জস্য আনা হবে কি না, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, ওজনে কম হলেও সিলিন্ডারের দাম যদি আনুপাতিক হারে না কমে, তবে তা মধ্যবিত্তের পকেটে বড় ধাক্কা দেবে।
বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে রান্নার গ্যাসের দাম এমনিতেই আকাশছোঁয়া, তার ওপর এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্যাস অপচয় রোধ এবং প্রতিটি ঘরে সমানভাবে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য গ্রহণ করতে চাইছে। সরবরাহ সংকটের কারণে যাতে বাজারে কালোবাজারি তৈরি না হয়, সেই বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের জেরেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এই ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনে গ্রাহকদের সিলিন্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নতুন নিয়মের সম্মুখীন হতে হতে পারে। আপাতত সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সবরকম কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি সত্যিই ১৪.২ কেজি থেকে কমিয়ে সিলিন্ডার ১০ কেজির করা হয়, তবে তা ভারতের এলপিজি বন্টন ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হবে। গ্রাহকদের এই সম্ভাব্য সংকটের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই সচেতন হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকে তেল সংস্থাগুলি কড়া নজর রাখছে। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লজিস্টিক সমস্যার প্রভাব এখন সরাসরি ভারতের প্রতিটি প্রান্তের রান্নাঘরে পৌঁছানোর অপেক্ষায়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

